খেলাধুলা

খেলাধুলা

একবিংশ শতাব্দীতে খেলাধুলার প্রচার এবং প্রসারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের কথা যদি বলি তাহলে আশির দশকে বা নব্বইয়ের দশকে এমনকি একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও বিটিভিই ছিল খেলাধুলা দেখার অন্যতম মাধ্যম। অনেকে গ্রাম থেকে শহরে চলে যেত পছন্দের দলের খেলা দেখতে। কিন্তু এখন মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন হয়ে যাওয়ায় এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় যেকোনও জায়গা থেকেই খেলাধুলা উপভোগ করা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খেলাধুলা কি আমাদের শুধুই বিনোদন দেয়, না এর অন্যান্য আরও প্রভাব আছে। আসলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে, সামাজিক পরিবর্তনে খেলাধুলার অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে। তার কয়েকটি আমি নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

.মানসিক বিকাশ: শিশুদের বেড়ে উঠা ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলায় যদি ছেলেমেয়েদের বাসার মধ্যে আটকে রাখা হয় তাহলে তাদের মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে হয় না। পরবর্তীতে দেখা যায় তারা সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশে চলতে পারে না।

সুস্থ দেহ: কথায় আছে ‘সুস্থ দেহ সুন্দর মন’। আপনি যদি সুস্থ থাকেন তাহলে আপনার কাজেও মন বসবে। আর সুস্থ থাকতে হলে আপনার খেলাধুলা/ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। আপনি যদি খুব বেশি খাবার খান কিন্তু ব্যায়াম না করেন তাহলে আপনার অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

যুব সমাজকে গড়ে তোলা: অলস মস্তিষ্ক মানুষকে খারাপ কাজ করতে প্রভাবিত করে। এজন্য দেখা যায় কিশোর বা যুবক বয়সে অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিজের জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যুব সমাজকে যদি খেলাধুলার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে তারা মাদক এবং অনিষ্ট কাজ হতে দূরে থাকে।

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক: দুইজন ব্যক্তি, দুইটি গোষ্ঠী বা দুইটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে খেলাধুলা। খেলার সময় দুই বা ততোধিক দেশের মানুষের মিলনমেলা হয়। বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ: খেলাধুলায় শুধু পুরুষরাই অংশ নেয় না। এখানে নারীরাও অংশ নেন। ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স সব খেলাতেই নারীরা অংশগ্রহণ করছে। কৃতি নারী খেলোয়াড়দের দেখে অনেক মেয়ে ভবিষ্যতে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সুতরাং, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে খেলাধুলাও ভূমিকা রাখছে।

প্রকৃয়াধীন